সানু ডাকাত - ১ :
সানাউল্লাহ, সানু মিয়া আর এখন সানু ডাকাত, খিল খিলিয়ে হাসতে লাগল সে। আজকে এক চুয়ানি না, দুচুয়ানি মাল খাওয়া হয়েছে, কাচের বোতলে সাদা ফেনা উঠানো মাল, মজাই আলাদা, ১নং মাল, এই কুলি পট্টিতেই বানায়। রাতের কাজ করতে হলে পুর্ব প্রস্তুতি দরকার। পাটির নিচে জিনিসটি রাখা আছে, ধার দেওয়া দরকার কিছুটা, জং ধরে গেছে। অনেক দিন পর কাজটি পাওয়া গেছে, কাজগুলো যখন তখন আসে না, বছরে একটা কি দুইটা পাওয়া যায়, ৫০ হাজার টাকার কন্ট্রাক্ট। সানু ডাকাত কুলি পট্টিতে সারা দিন মাল খেয়ে চোখ লাল করে ফেলছে, মাথাটি ভাল কাজ করছে। রাতের জন্য শক্তি দরকার, একটা মানুষকে জবাই করতে হবে। ৫০ হাজার টাকা কাজ শেষ করার পর দিবে, শালা এডভান্স দিতে চায় না। সানু ডাকাত অবশ্য চিন্তা করে রেখেছে টাকা না পেলে কিছু করার নাই, তখন একটা না, দুইটা জবাই করতে হবে।
এটা বিশ্বাসের কথা, কথা না রাখলে তার করার কিছুই নাই।
রামগড় চা বাগানে অনেকগুলো কুলি পট্টি। রাস্তা লাগোয়া একদম ঢালু জায়গায় ১নং কুলি পট্টি, সব সন্ত্রাসীদের আড্ডা এখানে। সানুর পার্টনার ঝুনু ডাকাত বিকালের দিকে ওস্তাদের সাথে দেখা করবে কথা দিয়ে গেছে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে নামে, শালার দেখা নাই। মাথা পরিষ্কার এখন, রাত ৩টার দিকে কাজ শেষ করতে হবে সব। সানু ডাকাত বিড়ি ধরিয়ে ছুরিতে ধার দিতে লাগল, ধার দেওয়াতে মজাই আলাদা। চেং চুং শব্দ করে শালার ছুরি আর পাথর, শুনতে বেশ মজাই লাগছে। গান ধরতে পারলে ভালই লাগত। এই জিনিষটি করা যায় না, বেসুরা গলা তার, মনে মনে গান ধরে হাসতে লাগল সানু মিয়া অরফে সানু ডাকাত।
ফরিদ শেখ ইন্ডিয়া থেকে ৪টা গরু নিয়ে আসবে রাতে, সালাকে জায়গাতেই খতম করতে হবে। এরকমই প্ল্যান সানু ডাকাত আর ঝুনু মিয়ার। দু জনে রাত ২ টার দিকে বিডিয়ার (বর্তমানে বিজিবি) ক্যাম্পকে ডানে রেখে নদীর বাক বরাবর এগিয়ে যেতে লাগল। চা বাগান আর উঁচু ঢিবির একটা জায়গায় গিয়ে থামল তারা, এই রাস্তা দিয়েই আসবে ফরিদ শেখ। বিড়ি ধরিয়ে টানতে লাগল সানু ডাকাত।
রাত ৪ টার দিকে টর্চের সংকেত পেল সানু, নদীর ওপার ইন্ডিয়া থেকে। ফরিদ শেখের পার্টি দূরে থাকবে, এত কাছে আসবে না। এর মধ্যেই যা করার, তা করতে হবে। অনেকগুলো পায়ের শব্দ শোনা গেল খুব কাছে থেকে। শালায় এসে পরেছে, সানু আর ঝুনু ডাকাত দাঁড়িয়ে গেল।
কে আসে, ফরিদ মিয়া নাকি? এরকম ডাক দিয়েই দুজনে মিলে ফরিদ শেখকে মাটিতে ফেলে জবাই করে দিল মুহুর্তের মধ্যেই!!
ধাপা ধাপি না থামা পর্যন্ত দেহটিকে শক্ত করে ধরে রাখল দুজনে। কোন দিকে কোন শব্দ নেই, গরুগুলো কোথায় গেল কে জানে? এরই ফাঁকে ফরিদ শেখের মৃত দেহটি নিয়ে ফেনি নদীতে ফেলে দিল দুজনে মিলে। দ্রুত কেটে পরতে হবে এখন, শেখের লোক আর বিডিয়ার কখন টের পায় কে জানে!!
.
.
.
এই মুহুর্তে আমার সামনে শুয়ে আছে সানু ডাকাত, মার্ডার কেসের আসামি।
এখন পর্যন্ত কিছুই জিজ্ঞাসা করা হয়নি, কিন্তু এরি মাঝে মুখ দিয়ে ফেনা বের করতে শুরু করেছে। আমি সানু মিয়ার দিকে তাকাচ্ছিলাম আর সিগারেট খাচ্ছিলাম। আপাতত দৃষ্টিতে নিরীহ ও গো বেচারার মত লাগছে সানুকে।
আমার ইনফরমেশন ঠিক আছে তো!!!... (চলবে)
Written by : Atiq Rahman, BD Army.
Edited by: BANGLADESH ARMY MAGAZINE.
ছবি: প্রতীকি ছবি
সানাউল্লাহ, সানু মিয়া আর এখন সানু ডাকাত, খিল খিলিয়ে হাসতে লাগল সে। আজকে এক চুয়ানি না, দুচুয়ানি মাল খাওয়া হয়েছে, কাচের বোতলে সাদা ফেনা উঠানো মাল, মজাই আলাদা, ১নং মাল, এই কুলি পট্টিতেই বানায়। রাতের কাজ করতে হলে পুর্ব প্রস্তুতি দরকার। পাটির নিচে জিনিসটি রাখা আছে, ধার দেওয়া দরকার কিছুটা, জং ধরে গেছে। অনেক দিন পর কাজটি পাওয়া গেছে, কাজগুলো যখন তখন আসে না, বছরে একটা কি দুইটা পাওয়া যায়, ৫০ হাজার টাকার কন্ট্রাক্ট। সানু ডাকাত কুলি পট্টিতে সারা দিন মাল খেয়ে চোখ লাল করে ফেলছে, মাথাটি ভাল কাজ করছে। রাতের জন্য শক্তি দরকার, একটা মানুষকে জবাই করতে হবে। ৫০ হাজার টাকা কাজ শেষ করার পর দিবে, শালা এডভান্স দিতে চায় না। সানু ডাকাত অবশ্য চিন্তা করে রেখেছে টাকা না পেলে কিছু করার নাই, তখন একটা না, দুইটা জবাই করতে হবে।
এটা বিশ্বাসের কথা, কথা না রাখলে তার করার কিছুই নাই।
রামগড় চা বাগানে অনেকগুলো কুলি পট্টি। রাস্তা লাগোয়া একদম ঢালু জায়গায় ১নং কুলি পট্টি, সব সন্ত্রাসীদের আড্ডা এখানে। সানুর পার্টনার ঝুনু ডাকাত বিকালের দিকে ওস্তাদের সাথে দেখা করবে কথা দিয়ে গেছে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে নামে, শালার দেখা নাই। মাথা পরিষ্কার এখন, রাত ৩টার দিকে কাজ শেষ করতে হবে সব। সানু ডাকাত বিড়ি ধরিয়ে ছুরিতে ধার দিতে লাগল, ধার দেওয়াতে মজাই আলাদা। চেং চুং শব্দ করে শালার ছুরি আর পাথর, শুনতে বেশ মজাই লাগছে। গান ধরতে পারলে ভালই লাগত। এই জিনিষটি করা যায় না, বেসুরা গলা তার, মনে মনে গান ধরে হাসতে লাগল সানু মিয়া অরফে সানু ডাকাত।
ফরিদ শেখ ইন্ডিয়া থেকে ৪টা গরু নিয়ে আসবে রাতে, সালাকে জায়গাতেই খতম করতে হবে। এরকমই প্ল্যান সানু ডাকাত আর ঝুনু মিয়ার। দু জনে রাত ২ টার দিকে বিডিয়ার (বর্তমানে বিজিবি) ক্যাম্পকে ডানে রেখে নদীর বাক বরাবর এগিয়ে যেতে লাগল। চা বাগান আর উঁচু ঢিবির একটা জায়গায় গিয়ে থামল তারা, এই রাস্তা দিয়েই আসবে ফরিদ শেখ। বিড়ি ধরিয়ে টানতে লাগল সানু ডাকাত।
রাত ৪ টার দিকে টর্চের সংকেত পেল সানু, নদীর ওপার ইন্ডিয়া থেকে। ফরিদ শেখের পার্টি দূরে থাকবে, এত কাছে আসবে না। এর মধ্যেই যা করার, তা করতে হবে। অনেকগুলো পায়ের শব্দ শোনা গেল খুব কাছে থেকে। শালায় এসে পরেছে, সানু আর ঝুনু ডাকাত দাঁড়িয়ে গেল।
কে আসে, ফরিদ মিয়া নাকি? এরকম ডাক দিয়েই দুজনে মিলে ফরিদ শেখকে মাটিতে ফেলে জবাই করে দিল মুহুর্তের মধ্যেই!!
ধাপা ধাপি না থামা পর্যন্ত দেহটিকে শক্ত করে ধরে রাখল দুজনে। কোন দিকে কোন শব্দ নেই, গরুগুলো কোথায় গেল কে জানে? এরই ফাঁকে ফরিদ শেখের মৃত দেহটি নিয়ে ফেনি নদীতে ফেলে দিল দুজনে মিলে। দ্রুত কেটে পরতে হবে এখন, শেখের লোক আর বিডিয়ার কখন টের পায় কে জানে!!
.
.
.
এই মুহুর্তে আমার সামনে শুয়ে আছে সানু ডাকাত, মার্ডার কেসের আসামি।
এখন পর্যন্ত কিছুই জিজ্ঞাসা করা হয়নি, কিন্তু এরি মাঝে মুখ দিয়ে ফেনা বের করতে শুরু করেছে। আমি সানু মিয়ার দিকে তাকাচ্ছিলাম আর সিগারেট খাচ্ছিলাম। আপাতত দৃষ্টিতে নিরীহ ও গো বেচারার মত লাগছে সানুকে।
আমার ইনফরমেশন ঠিক আছে তো!!!... (চলবে)
Written by : Atiq Rahman, BD Army.
Edited by: BANGLADESH ARMY MAGAZINE.
ছবি: প্রতীকি ছবি
