কে কোরবানী হয়েছিল , ইসহাক নাকি ইসমাইল , এটা নিয়ে অনেকেই আমার সাথে উল্টা সিধা নানা রকম বাগাড়ম্বর করেছেন যদিও কেউ কিছুই প্রমান করতে পারেন নি। কিন্তু ঐ যে পাগলের সুখ মনে মনে! মূর্খ ও উন্মাদ লোকগুলো বিশ্বাস করে বসে আছে তারা যেটা বলেছে তাতে তারাই জিতে গেছে। এবার আসল সত্য বিষয়টা ব্যখ্যা করা যাক---
এ বিষয়ে আগে যে পোষ্ট দিয়েছিলাম তাতে নিজের কোন ব্যখ্যা বিশ্লেষণ দেই নি। ইচ্ছা করেই কিছু ফাক রেখেছিলাম তর্কের স্বার্থে। কিন্তু কেউ আমাকে মিথ্যা প্রমান তো দুরের কথা , ব্যক্তিগত আক্রমন ও ফালতু কিচু প্যাচাল পাড়া ছাড়া তারা আর কিছুই করতে পারে নি। এ পোষ্টে আমি সম্পূর্নভাবেই ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে দিলাম , কোরান ও হাদিস অনুযায়ী , কোনমতেই ইসমাইলকে কোরবানী করা হয় নি। কোরান ও হাদিস বরং ইব্রাহিমের এ কোরবানী বিষয়ক গল্পটাকে আরো বেশী উদ্ভট ও গাজাখুরি বানিয়ে ফেলেছে। মুহাম্মদ আসলে শিব গড়তে গিয়ে বানর তৈরী করেছে।
কোরবানী নিয়ে যে তথ্য আমরা কোরান থেকে পাই তা নিম্নরূপ:---------------
সূরা আস সাফাত এর ১০০ থেকে ১১১ আয়াতে ------
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর। ১০০
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম। ১০১
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। ১০২
যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। ১০৩
তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম, ১০৪
তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। ১০৫
নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। ১০৬
আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। ১০৭
আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, ১০৮
ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। ১০৯
এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।১১০-
সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।১১১ সূরা আস সাফাত-৩৭:আয়াত ৯৯-১১১
১০২ নং আয়াতের এ অংশটুকু খেয়াল করতে হবে অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, । এখানে কি বলছে ? বলছে শিশু যখন ভালমতো হাটা চলার মত হলো এবং তার পিতার সাথে চলাফেরা করার মত হলো তখনই উক্ত কোরবানীটি ঘটে।তার অর্থ উক্ত শিশুটি ইব্রাহীমের সাথেই বসবাস করত। অথচ নিচের হাদিস থেকে দেখা যাচ্ছে সেই দুধের শিশু অবস্থায় ইব্রাহিম তার ইসমাইল ও তার মাতা হাজেরাকে মক্কাতে নির্বাসন দিয়েছিল এবং অত:পর ইব্রাহিম তখনই সর্বপ্রথম ইসমাইলের সাথে দেখা করে যখন ইসমাইল পরিনত বয়স্ক যুবক ও বিয়ে করে ঘর সংসার করছে। হাদিসটা দেখা যাক--------
ইবনে আব্বাস বর্নিত: তিনি বলেন যখন ইব্রাহীম ও তাঁহার স্ত্রী( সারাহ) এর যা হইবার তা হইয়া গেল অর্থাৎ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইল, তখন ইব্রাহীম শিশুপূত্র ইসমাইল ও ইসমাইলের মাতা হাজেরাকে লইয়া বাহির হইয়া গেলেন। তাহাদের সাথে একটি মশক ছিল আর তাতে পানি ছিল। ইসমাইলের মাতা মশক হইতে পানি পান করিতেন আর শিশুপূত্রের জন্য তাহার দুগ্ধে প্রাচুর্য আসিত। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহীম মক্কায় আসিয়া গেলেন এবং হাজেরাকে তার শিশুপূত্র সহ একটি বৃক্ষমূলে বসাইয়া রাখিলেন। তারপর তিনি তার নিজ স্ত্রী সারাহ এর নিকট ফিরিয়া চলিলেন। তখন ইসমাইলের মাতা তাহাকে অনুসরণ করিয়া কিছুদুর গেলেন ও ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসা করিলেন- হে ইব্রাহীম আমাদিগকে কাহার নিকট রাখিয়া যাইতেছেন? ইব্রাহীম বলিলেন- আল্লাহর নিকট। হাজেরা বলিলেন- আমি আল্লাহর নিকট থাকিতেই রাজি। - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -ইবনে আব্বাস বলেন, জুরহুম গোত্রের একদল লোক প্রান্তরের মধ্য দিয়া পথ অতিক্রম করিতেছিল, হঠাৎ তাহারা দেখিল, একদল পাখী উড়িতেছে। তাহারা যেন তাহা বিশ্বাসই করিতে পারিতেছিল না।তাহারা বলিল, যেখানে পানি থাকে সেখানেই তো এইসব পাখি উড়িতে দেখা যায়। তখন তাহারা পাখী উড়িবার স্থলে তাহাদের একজন লোক পাঠাইল। সে তথায় গিয়া দেখিল সেখানে পানি মৌজুদ আছে। তখন সে দলের লোকদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া তাহাদিগকে পানির খবর দিল। তারপর তহারা সকলেই হাজেরার নিকট আসিল এবং তাহাকে বলিল, হে ইসমাইল জননী! আপনি কি আমাদিগকে আপনার প্রতিবেশী হওয়ার বা আপনার সাথে বসবাস করিবার অনুমতি দিবেন ?হাজেরা তাহাদিগকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এইভাবে অনেক দিন চলিয়া গেল। তারপর হাজেরার শিশুপূত্র প্রাপ্ত বয়স্ক হইলেন, তখন তিনি জুরহুম গোত্রেরই এক কন্যাকে বিবাহ করিলেন। ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর নির্বাসিত পরিজনের কথা ইব্রাহীম এর মনে উদয় হইল। তিনি তাহার স্ত্রী সারাহ কে বলিলেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিজনের কথা জানিতে চাই। ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর ইব্রাহীম তাহাদের নিকট আসিলেন এবং সালাম দিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন- ইসমাইল কোথায় ?ইসমাইলের স্ত্রী বলিল- তিনি শিকারে গিয়াছেন।————— সহী বুখারী, বই-৫৫, হাদিস নং-৫৮৪
উক্ত হাদিসের এ অংশটুকু - ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর নির্বাসিত পরিজনের কথা ইব্রাহীম এর মনে উদয় হইল। তিনি তাহার স্ত্রী সারাহ কে বলিলেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিজনের কথা জানিতে চাই। থেকে দেখা যাচ্ছে নির্বাসন দেয়ার পর এই প্রথম ইব্রাহিম হাজেরা ও ইসমাইলের খোজ নিতে চাইল এবং আরও বোঝা যাচ্ছে সেই মরূভূমিতে যেখানে সে তাদেরকে ত্যাগ করে রেখে এসেছিল তারা অত:পর বেঁচেছিল নাকি মারা গেছিল সে সম্পর্কেও ইব্রাহিম জানত না। এখন উপরে উক্ত কোরানের আয়াত ও হাদিস আমাদেরকে কতকগুলি তথ্য দিচ্ছে , সেগুলো
(১) ইব্রাহিম একটা পুত্র সন্তান প্রাপ্ত হবে বলে আল্লাহর কাছ থেকে সংবাদ পেল ।
(২) সেই সন্তানটা ইব্রাহীমের সাথেই বসবাস করত অর্থাৎ কোরানের আয়াত থেকে বোঝাই যাচ্ছে না যে- সেই সন্তান ও তার মাকে ইব্রাহিম দুরে কোথাও নির্বাসন দিয়েছিল ।
(৩) সেই সন্তানটা যখন ভালমতো হাটা চলা করতে পারল তখন ইব্রাহীম তাকে কোরবানী করতে যায় , অর্থাৎ তখন সেই সন্তানের বয়স হবে ৫ থেকে ৭/৮এর মধ্যে, এর বেশী নয় কোনমতেই ।
প্রথম (১) নম্বর পয়েন্টটা জরুরী কারন বোঝা যাচ্ছে সেই সন্তানটা হবে ভাগ্যবান ও তার ওপর আল্লাহর আশীর্বাদ থাকবে। সুতরাং তার বংশধররাও হবে ভাগ্যবান। সেহেতু যে কোন নবি দাবীকারী লোক উক্ত সন্তানের বংশধর দাবী করার জন্য লালায়িত থাকবে। মোহাম্মদ সেটাই করেছে মাত্র।
ইহুদি, খৃষ্টান ও মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে ইব্রাহীমের দুটি সন্তান ছিল - ইসহাক ও ইসমাইল, তাই এর জন্য কোন রেফারেন্স দরকার নেই। ইসমাইলকে খুব ছোট অবস্থায় তার মাতা হাজেরার সাথে কথিত মক্কায় নির্বাসন দিলে ইসমাইল অত:পর যুবক হওয়ার আগে পর্যন্ত ইব্রাহীম তার সাথে দেখা করে নি অর্থাৎ দুধের বাচ্চা থেকে যুবক হওয়া পর্যন্ত কখনই ইসমাইল ইব্রাহীমের সাথে বসবাস করে নি। এমনকি সে বেঁচে আছে কি না তাও ইব্রাহীম জানত না যা উক্ত (২) পয়েন্ট থেকেই জানা যাচ্ছে এবং যা সমর্থন করছে উল্লেখিত হাদিস। অথচ কোরান থেকে বোঝা যাচ্ছে একটা সন্তান ইব্রাহীমের সাথে বাস করত আর যে চলাফেরা করার মত বয়েসে উপনীত হলো তাকে কোরবানী দেয়ার জন্য ইব্রাহিম রেডি হলো (৩ নং পয়েন্টের মূল বিষয়)। কিন্তু হাদিস মোতাবেক সেই সন্তান কোনমতেই ইসমাইল হতে পারে না, কারন সে ইব্রাহীমের সাথে বসবাস করত না। তাহলে সে কে ? সে যদি ইসমাইল না হয় , অবশ্যই সে ইসহাকই হবে , কারন সবাই বিশ্বাস করে তার দুইটি সন্তান- ইসমাইল ও ইসহাক। আর যদি ইব্রাহিমের সাথে বসবাসের বিষয়টা ধরা নাও হয় তাহলেও সে ইসমাইল হতে পারে না। কারন কোরান যে বয়সি ছেলের কোরবানীর কথা বলছে, দেখা যাচ্ছে সে বয়েস তো দুরের কথা তার বহু বছর পরেই ইব্রাহিম ইসমাইলের সাথে সর্বপ্রথম দেখা করেছে তাদেরকে নির্বাসন দেয়ার পর। সুতরাং কোরানে বর্ণিত ইব্রাহিমের সেই কোরবানী দেয়া সন্তান ইসমাইল হতেই পারে না। এখানে কোন রকম ধানাই পানাইয়ের সুযোগ নেই। অথচ দুনিয়ার সকল মুসলমানরা চিৎকার করে বলে ও বিশ্বাস করে - ইব্রাহিম যে সন্তানকে কোরবানী দিয়েছিল সে নাকি ইসমাইল। কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব ?
কোরানের কোথাও ইসমাইলের নাম বলে নি , হাদিসেও দেখা যাচ্ছে না ইব্রাহীম ইসমাইলকেই কোরবানী দিয়েছিল। তাহলে এ ধরনের দাবীর ভিত্তিটা কি ? ইসলাম কিন্তু সম্পূর্নতই দলিল ভিত্তিক এবং এর দুটি দলিল- কোরান ও হাদিস। এর বাইরের কোন দলিল গ্রহন করা যাবে না। সুতরাং এ দুটি দলিলের বাইরে কে কি আবিস্কার করল বা বিশ্বাস করল বা ধারনা করল সেটা ইসলাম নয়। কোরান ও হাদিস কোথাও ইসমাইলের নাম উল্লেখ করে নি, আবার এসবে যেভাবে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে তাতে কোনভাবেই সেই সন্তান ইসমাইল হতেও পারে না। এ বিষয়ে কোরান সবচাইতে যে আজগুবি ও উদ্ভট বক্তব্য দিয়েছে তা হলো -
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। ১০২ আয়াতে বলা হচ্ছে ইব্রাহীম তার স্বপ্নের কথা সেই সন্তানকে জানালে সেই নাবালক ৬/৭/৮ বছরের শিশু খুব সাগ্রহেই জবাই হতে রাজী হয়ে যায়। দুনিয়ায় এর চাইতে উদ্ভট ও গাজাখুরী কিচ্ছা কেউ কোনদিন শুনেছে ?
৭/৮ বছরের একটা শিশুকে তার আব্বা বলছে- হে পূত্র আমি তোমাকে জবাই করতে চাই , কারন স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমাকে জবাই করছি।
আর আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সেই শিশু তাতে রাজী হয়ে গেল, এর চাইতে উদ্ভট আর কিছু হতে পারে ? কারন স্বাভাবিক ভাবে যেটা হওয়ার কথা তা হলো - উক্ত শিশু সাথে সাথেই ধারনা করবে তার পিতা পাগল বা উন্মাদ হয়ে গেছে। তখন উক্ত শিশু বরং তার পিতার কাছ থেকে দুরে সরে যাবে। আর যদি ধরেও নেই যে আল্লাহ সত্যি সত্যি ইব্রাহীমকে তার সন্তান জবাই করতে বলেছে , তাহলে সে স্রেফ উজবুকের মত কি তার নাবালক ছেলের কাছে সেটা বলতে পারে ? কারন সেটা বললে উক্ত ছেলে সাথে সাথে তার বাপকে উন্মাদ বা পাগল ভাববে ও সেই কাহিনী সে আশপাশের সবাইকে জানিয়ে দেবে। তাতে সেই আল্লাহর আদেশ পালনে সমস্যা সৃষ্টি হবে। অথচ তৌরাত কিতাবে ঠিক ঠিকই বলছে ইব্রাহীম ইসহাককেই কোরবানী করতে গেছিল , তবে সে সেটা গোপনেই করতে গেছিল, কখনই সে বিষয়টি ইসহাকের সাথে আলাপ করেনি। আর সেটাই স্বাভাবিক। এখন দেখা যাক এ বিষয়ে তৌরাত কিতাব কি বলে --
কোরবানী নিয়ে যে তথ্য আমরা কোরান থেকে পাই তা নিম্নরূপ:---------------
সূরা আস সাফাত এর ১০০ থেকে ১১১ আয়াতে ------
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর। ১০০
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম। ১০১
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। ১০২
যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। ১০৩
তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম, ১০৪
তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। ১০৫
নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। ১০৬
আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। ১০৭
আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, ১০৮
ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। ১০৯
এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।১১০-
সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।১১১ সূরা আস সাফাত-৩৭:আয়াত ৯৯-১১১
১০২ নং আয়াতের এ অংশটুকু খেয়াল করতে হবে অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, । এখানে কি বলছে ? বলছে শিশু যখন ভালমতো হাটা চলার মত হলো এবং তার পিতার সাথে চলাফেরা করার মত হলো তখনই উক্ত কোরবানীটি ঘটে।তার অর্থ উক্ত শিশুটি ইব্রাহীমের সাথেই বসবাস করত। অথচ নিচের হাদিস থেকে দেখা যাচ্ছে সেই দুধের শিশু অবস্থায় ইব্রাহিম তার ইসমাইল ও তার মাতা হাজেরাকে মক্কাতে নির্বাসন দিয়েছিল এবং অত:পর ইব্রাহিম তখনই সর্বপ্রথম ইসমাইলের সাথে দেখা করে যখন ইসমাইল পরিনত বয়স্ক যুবক ও বিয়ে করে ঘর সংসার করছে। হাদিসটা দেখা যাক--------
ইবনে আব্বাস বর্নিত: তিনি বলেন যখন ইব্রাহীম ও তাঁহার স্ত্রী( সারাহ) এর যা হইবার তা হইয়া গেল অর্থাৎ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইল, তখন ইব্রাহীম শিশুপূত্র ইসমাইল ও ইসমাইলের মাতা হাজেরাকে লইয়া বাহির হইয়া গেলেন। তাহাদের সাথে একটি মশক ছিল আর তাতে পানি ছিল। ইসমাইলের মাতা মশক হইতে পানি পান করিতেন আর শিশুপূত্রের জন্য তাহার দুগ্ধে প্রাচুর্য আসিত। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহীম মক্কায় আসিয়া গেলেন এবং হাজেরাকে তার শিশুপূত্র সহ একটি বৃক্ষমূলে বসাইয়া রাখিলেন। তারপর তিনি তার নিজ স্ত্রী সারাহ এর নিকট ফিরিয়া চলিলেন। তখন ইসমাইলের মাতা তাহাকে অনুসরণ করিয়া কিছুদুর গেলেন ও ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসা করিলেন- হে ইব্রাহীম আমাদিগকে কাহার নিকট রাখিয়া যাইতেছেন? ইব্রাহীম বলিলেন- আল্লাহর নিকট। হাজেরা বলিলেন- আমি আল্লাহর নিকট থাকিতেই রাজি। - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -ইবনে আব্বাস বলেন, জুরহুম গোত্রের একদল লোক প্রান্তরের মধ্য দিয়া পথ অতিক্রম করিতেছিল, হঠাৎ তাহারা দেখিল, একদল পাখী উড়িতেছে। তাহারা যেন তাহা বিশ্বাসই করিতে পারিতেছিল না।তাহারা বলিল, যেখানে পানি থাকে সেখানেই তো এইসব পাখি উড়িতে দেখা যায়। তখন তাহারা পাখী উড়িবার স্থলে তাহাদের একজন লোক পাঠাইল। সে তথায় গিয়া দেখিল সেখানে পানি মৌজুদ আছে। তখন সে দলের লোকদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া তাহাদিগকে পানির খবর দিল। তারপর তহারা সকলেই হাজেরার নিকট আসিল এবং তাহাকে বলিল, হে ইসমাইল জননী! আপনি কি আমাদিগকে আপনার প্রতিবেশী হওয়ার বা আপনার সাথে বসবাস করিবার অনুমতি দিবেন ?হাজেরা তাহাদিগকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এইভাবে অনেক দিন চলিয়া গেল। তারপর হাজেরার শিশুপূত্র প্রাপ্ত বয়স্ক হইলেন, তখন তিনি জুরহুম গোত্রেরই এক কন্যাকে বিবাহ করিলেন। ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর নির্বাসিত পরিজনের কথা ইব্রাহীম এর মনে উদয় হইল। তিনি তাহার স্ত্রী সারাহ কে বলিলেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিজনের কথা জানিতে চাই। ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর ইব্রাহীম তাহাদের নিকট আসিলেন এবং সালাম দিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন- ইসমাইল কোথায় ?ইসমাইলের স্ত্রী বলিল- তিনি শিকারে গিয়াছেন।————— সহী বুখারী, বই-৫৫, হাদিস নং-৫৮৪
উক্ত হাদিসের এ অংশটুকু - ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর নির্বাসিত পরিজনের কথা ইব্রাহীম এর মনে উদয় হইল। তিনি তাহার স্ত্রী সারাহ কে বলিলেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিজনের কথা জানিতে চাই। থেকে দেখা যাচ্ছে নির্বাসন দেয়ার পর এই প্রথম ইব্রাহিম হাজেরা ও ইসমাইলের খোজ নিতে চাইল এবং আরও বোঝা যাচ্ছে সেই মরূভূমিতে যেখানে সে তাদেরকে ত্যাগ করে রেখে এসেছিল তারা অত:পর বেঁচেছিল নাকি মারা গেছিল সে সম্পর্কেও ইব্রাহিম জানত না। এখন উপরে উক্ত কোরানের আয়াত ও হাদিস আমাদেরকে কতকগুলি তথ্য দিচ্ছে , সেগুলো
(১) ইব্রাহিম একটা পুত্র সন্তান প্রাপ্ত হবে বলে আল্লাহর কাছ থেকে সংবাদ পেল ।
(২) সেই সন্তানটা ইব্রাহীমের সাথেই বসবাস করত অর্থাৎ কোরানের আয়াত থেকে বোঝাই যাচ্ছে না যে- সেই সন্তান ও তার মাকে ইব্রাহিম দুরে কোথাও নির্বাসন দিয়েছিল ।
(৩) সেই সন্তানটা যখন ভালমতো হাটা চলা করতে পারল তখন ইব্রাহীম তাকে কোরবানী করতে যায় , অর্থাৎ তখন সেই সন্তানের বয়স হবে ৫ থেকে ৭/৮এর মধ্যে, এর বেশী নয় কোনমতেই ।
প্রথম (১) নম্বর পয়েন্টটা জরুরী কারন বোঝা যাচ্ছে সেই সন্তানটা হবে ভাগ্যবান ও তার ওপর আল্লাহর আশীর্বাদ থাকবে। সুতরাং তার বংশধররাও হবে ভাগ্যবান। সেহেতু যে কোন নবি দাবীকারী লোক উক্ত সন্তানের বংশধর দাবী করার জন্য লালায়িত থাকবে। মোহাম্মদ সেটাই করেছে মাত্র।
ইহুদি, খৃষ্টান ও মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে ইব্রাহীমের দুটি সন্তান ছিল - ইসহাক ও ইসমাইল, তাই এর জন্য কোন রেফারেন্স দরকার নেই। ইসমাইলকে খুব ছোট অবস্থায় তার মাতা হাজেরার সাথে কথিত মক্কায় নির্বাসন দিলে ইসমাইল অত:পর যুবক হওয়ার আগে পর্যন্ত ইব্রাহীম তার সাথে দেখা করে নি অর্থাৎ দুধের বাচ্চা থেকে যুবক হওয়া পর্যন্ত কখনই ইসমাইল ইব্রাহীমের সাথে বসবাস করে নি। এমনকি সে বেঁচে আছে কি না তাও ইব্রাহীম জানত না যা উক্ত (২) পয়েন্ট থেকেই জানা যাচ্ছে এবং যা সমর্থন করছে উল্লেখিত হাদিস। অথচ কোরান থেকে বোঝা যাচ্ছে একটা সন্তান ইব্রাহীমের সাথে বাস করত আর যে চলাফেরা করার মত বয়েসে উপনীত হলো তাকে কোরবানী দেয়ার জন্য ইব্রাহিম রেডি হলো (৩ নং পয়েন্টের মূল বিষয়)। কিন্তু হাদিস মোতাবেক সেই সন্তান কোনমতেই ইসমাইল হতে পারে না, কারন সে ইব্রাহীমের সাথে বসবাস করত না। তাহলে সে কে ? সে যদি ইসমাইল না হয় , অবশ্যই সে ইসহাকই হবে , কারন সবাই বিশ্বাস করে তার দুইটি সন্তান- ইসমাইল ও ইসহাক। আর যদি ইব্রাহিমের সাথে বসবাসের বিষয়টা ধরা নাও হয় তাহলেও সে ইসমাইল হতে পারে না। কারন কোরান যে বয়সি ছেলের কোরবানীর কথা বলছে, দেখা যাচ্ছে সে বয়েস তো দুরের কথা তার বহু বছর পরেই ইব্রাহিম ইসমাইলের সাথে সর্বপ্রথম দেখা করেছে তাদেরকে নির্বাসন দেয়ার পর। সুতরাং কোরানে বর্ণিত ইব্রাহিমের সেই কোরবানী দেয়া সন্তান ইসমাইল হতেই পারে না। এখানে কোন রকম ধানাই পানাইয়ের সুযোগ নেই। অথচ দুনিয়ার সকল মুসলমানরা চিৎকার করে বলে ও বিশ্বাস করে - ইব্রাহিম যে সন্তানকে কোরবানী দিয়েছিল সে নাকি ইসমাইল। কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব ?
কোরানের কোথাও ইসমাইলের নাম বলে নি , হাদিসেও দেখা যাচ্ছে না ইব্রাহীম ইসমাইলকেই কোরবানী দিয়েছিল। তাহলে এ ধরনের দাবীর ভিত্তিটা কি ? ইসলাম কিন্তু সম্পূর্নতই দলিল ভিত্তিক এবং এর দুটি দলিল- কোরান ও হাদিস। এর বাইরের কোন দলিল গ্রহন করা যাবে না। সুতরাং এ দুটি দলিলের বাইরে কে কি আবিস্কার করল বা বিশ্বাস করল বা ধারনা করল সেটা ইসলাম নয়। কোরান ও হাদিস কোথাও ইসমাইলের নাম উল্লেখ করে নি, আবার এসবে যেভাবে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে তাতে কোনভাবেই সেই সন্তান ইসমাইল হতেও পারে না। এ বিষয়ে কোরান সবচাইতে যে আজগুবি ও উদ্ভট বক্তব্য দিয়েছে তা হলো -
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। ১০২ আয়াতে বলা হচ্ছে ইব্রাহীম তার স্বপ্নের কথা সেই সন্তানকে জানালে সেই নাবালক ৬/৭/৮ বছরের শিশু খুব সাগ্রহেই জবাই হতে রাজী হয়ে যায়। দুনিয়ায় এর চাইতে উদ্ভট ও গাজাখুরী কিচ্ছা কেউ কোনদিন শুনেছে ?
৭/৮ বছরের একটা শিশুকে তার আব্বা বলছে- হে পূত্র আমি তোমাকে জবাই করতে চাই , কারন স্বপ্নে দেখেছি আমি তোমাকে জবাই করছি।
আর আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সেই শিশু তাতে রাজী হয়ে গেল, এর চাইতে উদ্ভট আর কিছু হতে পারে ? কারন স্বাভাবিক ভাবে যেটা হওয়ার কথা তা হলো - উক্ত শিশু সাথে সাথেই ধারনা করবে তার পিতা পাগল বা উন্মাদ হয়ে গেছে। তখন উক্ত শিশু বরং তার পিতার কাছ থেকে দুরে সরে যাবে। আর যদি ধরেও নেই যে আল্লাহ সত্যি সত্যি ইব্রাহীমকে তার সন্তান জবাই করতে বলেছে , তাহলে সে স্রেফ উজবুকের মত কি তার নাবালক ছেলের কাছে সেটা বলতে পারে ? কারন সেটা বললে উক্ত ছেলে সাথে সাথে তার বাপকে উন্মাদ বা পাগল ভাববে ও সেই কাহিনী সে আশপাশের সবাইকে জানিয়ে দেবে। তাতে সেই আল্লাহর আদেশ পালনে সমস্যা সৃষ্টি হবে। অথচ তৌরাত কিতাবে ঠিক ঠিকই বলছে ইব্রাহীম ইসহাককেই কোরবানী করতে গেছিল , তবে সে সেটা গোপনেই করতে গেছিল, কখনই সে বিষয়টি ইসহাকের সাথে আলাপ করেনি। আর সেটাই স্বাভাবিক। এখন দেখা যাক এ বিষয়ে তৌরাত কিতাব কি বলে --